আমাদের যে কোন পণ্য অর্ডার করতে কল বা WhatsApp করুন: +8801712524198 || হট লাইন: 01675565222

সামুদ্রিক মাছের দাম বাংলাদেশ | Best Guide-2026
সামুদ্রিক মাছের দাম বাংলাদেশ, প্রকারভেদ ও বাজার বিশ্লেষণ জানুন। রুপচাঁদা, কোরাল, টুনা, চিংড়ি ও অন্যান্য জনপ্রিয় সামুদ্রিক মাছের গড় দাম, পুষ্টিগুণ এবং বাজার প্রবণতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পড়ুন এখানে।
বাংলাদেশে সামুদ্রিক মাছের দাম এখন দেশের খাদ্য বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল যেমন কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ভোলা, পটুয়াখালী এবং বরগুনায় প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে সামুদ্রিক মাছ ধরা হয়। এই মাছগুলোর চাহিদা দেশের ভেতরে যেমন বেশি, তেমনি বিদেশেও রপ্তানির জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়। ফলে সামুদ্রিক মাছ শুধু খাদ্য নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০২৫ সালে বাংলাদেশের সামুদ্রিক মাছের গড় দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রুপচাঁদা মাছের দাম কেজিপ্রতি ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকা, কোরাল মাছ ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা, টুনা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং টাইগার চিংড়ি ১০০০ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লোবস্টার, পমফ্রেট, রিবন ফিশ ও ভেটকি মাছের দামও আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। তবে দাম অঞ্চল ও মৌসুম অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।
সামুদ্রিক মাছের দামে পরিবর্তনের প্রধান কারণ হলো আবহাওয়া, রপ্তানি চাহিদা, জ্বালানি খরচ, এবং পরিবহন ব্যয়। ঘূর্ণিঝড় বা বর্ষাকালে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে সরবরাহ কমে যায়, এতে দাম বেড়ে যায়। অন্যদিকে, রপ্তানির পরিমাণ বাড়লে স্থানীয় বাজারে প্রাপ্যতা কমে এবং দাম বাড়ে।

বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক অনলাইন ফিশ মার্কেট যেমন FishExpress, SeaFishDhaka, Daraz Fresh ইত্যাদির মাধ্যমে ক্রেতারা ঘরে বসেই তাজা সামুদ্রিক মাছ কিনতে পারছেন। তবে কেনার সময় মাছের তাজাভাব যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। তাজা মাছের চোখ পরিষ্কার ও উজ্জ্বল থাকে, গন্ধ স্বাভাবিক থাকে এবং আঁশ শক্ত থাকে।
সামুদ্রিক মাছের পুষ্টিগুণ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, ভিটামিন D, ক্যালসিয়াম ও আয়রন যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়ক। নিয়মিত সামুদ্রিক মাছ খেলে মস্তিষ্কের বিকাশ, চোখের সুস্থতা এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় থাকে।
বাংলাদেশে সরকার ইতিমধ্যে ব্লু ইকোনমি নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এর ফলে আগামী বছরগুলোতে সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন, রপ্তানি ও বাজার সম্প্রসারণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সবশেষে বলা যায়, সামুদ্রিক মাছের দাম বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান হলেও এর জনপ্রিয়তা আরও দ্রুত বাড়ছে। কারণ, স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ এখন পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক খাদ্যের দিকে ঝুঁকছেন। তাজা সামুদ্রিক মাছ শুধুমাত্র সুস্বাদু নয়, এটি শরীরের জন্য এক অনন্য পুষ্টির উৎস।
Read More: বাংলাদেশে সামুদ্রিক মাছ রপ্তানি করে কোন দেশগুলোতে পাঠানো হয়
সামুদ্রিক মাছের দাম বাংলাদেশ :
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামুদ্রিক মাছের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। পুষ্টিগুণ, স্বাদ, এবং রপ্তানিযোগ্য মানের কারণে সামুদ্রিক মাছ দেশের খাদ্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। এই প্রবন্ধে আমরা আলোচনা করব — বাংলাদেশের সামুদ্রিক মাছের দাম, বাজারের ধারা, জনপ্রিয় মাছের তালিকা এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য।
বাংলাদেশের সামুদ্রিক মাছের গুরুত্ব:
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল — বিশেষ করে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী, ভোলার সমুদ্র উপকূলে প্রতিদিন হাজার হাজার টন সামুদ্রিক মাছ আহরণ হয়। এসব মাছের মধ্যে টুনা, লোবস্টার, রুপচাঁদা, কোরাল, চিংড়ি, প্যারটফিশ, পমফ্রেট, এবং হিলসা রয়েছে।
এগুলো শুধু দেশের ভেতরে নয়, বিদেশেও রপ্তানি হয়, বিশেষত ইউরোপ, জাপান, ও মধ্যপ্রাচ্যে। তাই দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারও প্রভাব ফেলে।
২০২৫ সালে বাংলাদেশের সামুদ্রিক মাছের গড় দাম:
২০২৫ সালের শুরুতে বাংলাদেশের বিভিন্ন মাছের বাজার, বিশেষ করে ঢাকার কারওয়ান বাজার, চট্টগ্রাম ফিশারি ঘাট, এবং কক্সবাজার ফিশ মার্কেটে সামুদ্রিক মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। নিচে জনপ্রিয় কিছু মাছের আনুমানিক গড় দাম (কেজি প্রতি) দেওয়া হলো:
| মাছের নাম | গড় দাম (প্রতি কেজি) |
|---|---|
| রুপচাঁদা | ১২০০ – ১৮০০ টাকা |
| কোরাল | ৭০০ – ১২০০ টাকা |
| টুনা মাছ | ৫০০ – ৮০০ টাকা |
| চিংড়ি (টাইগার/ব্ল্যাক টাইগার) | ১০০০ – ১৮০০ টাকা |
| লোবস্টার | ২০০০ – ২৫০০ টাকা |
| পমফ্রেট (সাদা) | ৮০০ – ১৩০০ টাকা |
| রিবন ফিশ | ৩৫০ – ৫০০ টাকা |
| কাটলা (সামুদ্রিক) | ৩০০ – ৪৫০ টাকা |
| ভেটকি (সি বাস) | ৫০০ – ৮০০ টাকা |
দ্রষ্টব্য: অঞ্চল, মৌসুম, এবং প্রাপ্যতার উপর ভিত্তি করে দাম কিছুটা ওঠানামা করতে পারে।

দামের ওঠানামার কারণ:
সামুদ্রিক মাছের দামে পরিবর্তন আসে নানা কারণে। যেমন—
- আবহাওয়া ও মৌসুমি প্রভাব: বর্ষাকাল বা ঘূর্ণিঝড়ের সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকলে সরবরাহ কমে যায়, ফলে দাম বেড়ে যায়।
- রপ্তানির চাহিদা: আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বেশি হলে স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ে।
- জ্বালানি খরচ ও ট্রান্সপোর্ট ব্যয়: জেলেদের জ্বালানি খরচ বেড়ে গেলে মাছের পাইকারি দামও বাড়ে।
- সংরক্ষণ ও হিমায়িত প্রযুক্তি: ফ্রেশ মাছের অভাবে ফ্রোজেন মাছের ব্যবহার বাড়লে দামের পার্থক্য দেখা যায়।
সামুদ্রিক মাছ কেনার সময় যা খেয়াল রাখবেন:
- তাজা মাছ চিনুন: চোখ পরিষ্কার ও উজ্জ্বল, আঁশ শক্ত, এবং মাছের গন্ধ যেন স্বাভাবিক থাকে।
- বাজার যাচাই করুন: দাম তুলনা করে কিনুন, কারণ অঞ্চলভেদে পার্থক্য থাকতে পারে।
- ফ্রোজেন মাছ কিনলে: উৎপাদন তারিখ ও প্যাকেজিং পরীক্ষা করুন।
- অনলাইন ফিশ মার্কেট: এখন অনেক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেমন FishExpress, SeaFishDhaka, Daraz Fresh সামুদ্রিক মাছ হোম ডেলিভারি দেয়।
সামুদ্রিক মাছের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা:
সামুদ্রিক মাছ শুধু স্বাদের জন্য নয়, স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও অসাধারণ। এতে আছে—
- ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা হার্ট ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।
- উচ্চমানের প্রোটিন যা শরীরের গঠন ও শক্তি বাড়ায়।
- ভিটামিন D ( Vitamin D ) , আয়রন ও জিঙ্ক যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
নিয়মিত সামুদ্রিক মাছ খেলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে।
ভবিষ্যৎ বাজার সম্ভাবনা:
বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে ব্লু ইকোনমি নীতির মাধ্যমে সমুদ্রসম্পদ আহরণে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এর ফলে আগামী বছরগুলোতে সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন ও সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পাবে।
তবে পরিবেশবান্ধব মাছ ধরা ও সংরক্ষণ নীতিমালা কার্যকর করা গেলে, দাম স্থিতিশীল থাকবে এবং রপ্তানি আয়ও বাড়বে।
উপসংহার:
বাংলাদেশে সামুদ্রিক মাছের দাম ক্রমবর্ধমান হলেও এর চাহিদা আরও দ্রুত বাড়ছে। কারণ, মানুষ এখন পুষ্টি সচেতন ও স্বাস্থ্যবান জীবনযাপনে আগ্রহী। সঠিক বাজার তথ্য জানা, তাজা মাছ নির্বাচন এবং সংরক্ষণে সতর্কতা অবলম্বন করলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই লাভ হবে।
সুতরাং, বাংলাদেশের সামুদ্রিক মাছ শুধু অর্থনৈতিক নয় — পুষ্টিগত দিক থেকেও এক অমূল্য সম্পদ।
